Capsule
Asibalin 50 50 mg Capsule
জেনেরিক: প্রিগাবালিন
প্রস্তুতকারক: Asiatic Laboratories Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Gabapentinoid — neuropathic pain agent and anticonvulsant (prescription-only)
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি Capsule | ৳ 12.00 |
| Capsule | ৳ 12.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Asibalin 50 কী?
অ্যাসিবালিন ৫০ হলো এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ৫০ মি.গ্রা. প্রিগাবালিন ক্যাপসুল। প্রিগাবালিন গ্যাবাপেন্টিনয়েড শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত এবং মূলত স্নায়ুজনিত ব্যথা উপশমে ও কিছু ধরনের খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
Asibalin 50 50 mg capsule বাংলাদেশে Asiatic Laboratories Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে রয়েছে Pregabalin, একটি কঠোরভাবে প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধ, যা স্নায়ুজনিত (নিউরোপ্যাথিক) ব্যথা — যেমন ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি ও হারপিস-পরবর্তী ব্যথা — ফাইব্রোমায়ালজিয়া, নির্দিষ্ট ধরনের মৃগীরোগ ও দুশ্চিন্তাজনিত রোগে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণ ব্যথানাশক নয় এবং দৈনন্দিন ব্যথায় কাজ করে না; প্রেসক্রিপশন ছাড়া প্রিগাবালিনের অপব্যবহার বাংলাদেশে একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রিগাবালিন অতিসক্রিয় স্নায়ুকোষের ক্যালসিয়াম চ্যানেলের একটি অংশে যুক্ত হয়ে উত্তেজক রাসায়নিক বার্তাবাহকের নিঃসরণ কমায়। এতে স্নায়ুর অস্বাভাবিক সংকেত শান্ত হয় — জ্বালাপোড়া, শক লাগার মতো বা ছুরিকাঘাতের মতো স্নায়ুব্যথা কমে, খিঁচুনি হ্রাস পায় ও দুশ্চিন্তা কমে। উপকার ঘণ্টায় নয়, কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহে ধীরে ধীরে আসে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
Asibalin 50 যেসব ক্ষেত্রে প্রেসক্রাইব করা হয়:
- স্নায়ুজনিত ব্যথা — ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি, হারপিস-পরবর্তী স্নায়ুব্যথা, মেরুদণ্ডের আঘাতজনিত স্নায়ুব্যথা, বিশেষজ্ঞের পরামর্শে সায়াটিকা-জাতীয় স্নায়ুব্যথা
- ফাইব্রোমায়ালজিয়া — সারা শরীরে ব্যথা, ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যা
- মৃগীরোগ — আংশিক (ফোকাল) খিঁচুনিতে সংযোজক চিকিৎসা হিসেবে
- জেনারালাইজড অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার — মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে
চিকিৎসকের নিশ্চিত রোগনির্ণয় ছাড়া এটি ব্যবহারযোগ্য নয়। সাধারণ মাথাব্যথা, মাংসপেশির ব্যথা বা আর্থ্রাইটিসে এটি কাজ করে না, আর নিজে নিজে খেলে নির্ভরশীলতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সেবনবিধি ও মাত্রা
Asibalin 50-এর মাত্রা সবসময় চিকিৎসক রোগী বুঝে ঠিক করেন। স্নায়ুব্যথায় প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ ধরণ:
- কম দিয়ে শুরু — প্রায়ই দিনে এক-দুইবার ৭৫ মি.গ্রা. (কখনো রাতে ৫০–৭৫ মি.গ্রা.)
- সহনীয়তা দেখে কয়েক দিন পরপর ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়
- সাধারণ রক্ষণ-মাত্রা দিনে ১৫০–৩০০ মি.গ্রা., দুই ভাগে; বিশেষ ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ ৬০০ মি.গ্রা.
খাবারসহ বা ছাড়া, প্রতিদিন একই সময়ে খাওয়া যায়। কিডনির সমস্যায় মাত্রা কমাতে হয়। নিজে থেকে মাত্রা বাড়াবেন না, কাউকে ওষুধ দেবেন না, এবং হঠাৎ বন্ধ করবেন না — চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে অন্তত এক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে কমিয়ে বন্ধ করতে হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
Asibalin 50-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিশেষত প্রথম কয়েক সপ্তাহে:
- মাথা ঘোরা ও ঝিমুনি — সবচেয়ে বেশি দেখা যায়; সময়ের সঙ্গে প্রায়ই কমে আসে
- টলমল ভাব, ঝাপসা দৃষ্টি, মনোযোগের ঘাটতি
- ওজন বৃদ্ধি ও ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
- হাত, গোড়ালি বা পা ফোলা
- মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য
- মেজাজ পরিবর্তন; বিরল ক্ষেত্রে বিষণ্নতা বা আত্মহত্যার চিন্তা — সঙ্গে সঙ্গে জানান
গুরুতর কিন্তু কম দেখা যায়: মুখ-জিহ্বা ফুলে যাওয়া তীব্র অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট (বিশেষত ওপিওয়েড বা ঘুমের ওষুধের সঙ্গে), এবং হঠাৎ বন্ধ করলে নির্ভরশীলতা ও উইথড্রয়াল উপসর্গ (অনিদ্রা, অস্থিরতা, ঘাম, খিঁচুনি)।
সতর্কতা
Asibalin 50 ব্যবহারের অপরিহার্য সতর্কতা:
- শুধু চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে, নির্ণীত রোগের জন্যই খান — বাংলাদেশে প্রিগাবালিনের ব্যাপক অপব্যবহার হয় এবং এতে সত্যিকারের নির্ভরশীলতা তৈরি হয়
- হঠাৎ বন্ধ করবেন না; চিকিৎসকের নির্দেশমতো অন্তত এক সপ্তাহে ধীরে ধীরে কমান
- কতটা ঝিমুনি হয় বুঝে ওঠার আগে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালাবেন না, যন্ত্রপাতি ব্যবহার করবেন না
- অ্যালকোহল পান করবেন না; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ বা ওপিওয়েড ব্যথানাশকের সঙ্গে মেলাবেন না — শ্বাস বিপজ্জনকভাবে দমে যেতে পারে
- কিডনি রোগ, হার্ট ফেইলিউর, শ্বাসকষ্ট, মানসিক রোগ বা মাদকাসক্তির ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান
- ওজন ও গোড়ালির ফোলা খেয়াল করুন; ডায়াবেটিস থাকলে সুগার ও পায়ের ত্বকে নজর রাখুন
- ওষুধ নিরাপদে রাখুন — কারও সঙ্গে ভাগ করবেন না
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
Asibalin 50-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার্যাকশন:
- ওপিওয়েড ব্যথানাশক (ট্রামাডল, মরফিন, কোডিন) — একসঙ্গে খেলে অতিরিক্ত ঝিমুনি ও বিপজ্জনকভাবে শ্বাস দমে যাওয়া; কেবল ঘনিষ্ঠ চিকিৎসা-তত্ত্বাবধানে
- বেনজোডায়াজেপিন ও ঘুমের ওষুধ (ক্লোনাজেপাম, ডায়াজেপাম, জলপিডেম) — ঝিমুনি ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়
- অ্যালকোহল — ঝিমুনি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়; সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন
- অ্যান্টিহিস্টামিনসহ অন্যান্য ঘুমপাড়ানি ওষুধ — বাড়তি ঝিমুনি
- পায়োগ্লিটাজোন-জাতীয় ডায়াবেটিসের ওষুধ — পানি জমা ও ওজন বৃদ্ধি বাড়তে পারে
- ACE ইনহিবিটর — মুখ ফুলে যাওয়ার (অ্যানজিওইডিমা) ঝুঁকি বাড়তে পারে
লিভার এনজাইমের মাধ্যমে প্রিগাবালিনের ইন্টার্যাকশন কম, কিন্তু ঘুমপাড়ানি ওষুধের সঙ্গে মিশ্রণই আসল বিপদ — আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে Asibalin 50 খাবেন না:
- প্রিগাবালিন বা ওষুধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
নিচের ক্ষেত্রে কেবল বিশেষ সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ব্যবহারযোগ্য:
- উল্লেখযোগ্য কিডনির দুর্বলতা (মাত্রা কমাতে হবে)
- গুরুতর শ্বাসকষ্ট বা ওপিওয়েড/ঘুমের ওষুধ সেবন
- মাদক বা অ্যালকোহল আসক্তির ইতিহাস — নির্ভরশীলতার ঝুঁকি বেশি
- গুরুতর হার্ট ফেইলিউর
- গ্যালাকটোজ অসহিষ্ণুতার বিরল বংশগত সমস্যা (ক্যাপসুলে ল্যাকটোজ থাকতে পারে)
বিশেষজ্ঞের মৃগী-চিকিৎসার বাইরে শিশুদের জন্য এটি অনুমোদিত নয়।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: একান্ত প্রয়োজন না হলে গর্ভাবস্থায় Asibalin 50 এড়িয়ে চলা উচিত। গবেষণায় প্রথম তিন মাসে সেবনে জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি সামান্য বাড়ার ইঙ্গিত আছে, তাই সন্তান নিতে চাইলে আগে বিকল্প নিয়ে আলোচনা করুন এবং চিকিৎসা চলাকালীন কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন। গর্ভধারণ জানার পর হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করবেন না — নিরাপদ পরিকল্পনার জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
স্তন্যদান: প্রিগাবালিন বুকের দুধে যায় এবং শিশুর ওপর এর প্রভাব ভালোভাবে জানা নেই; স্তন্যদানকালে এটি সাধারণত সুপারিশ করা হয় না। নিরাপদ বিকল্প নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
সংরক্ষণ
Asibalin 50 ৩০° সেলসিয়াসের নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, মূল প্যাকে রাখুন। প্রিগাবালিন অপব্যবহারের ঝুঁকিযুক্ত ওষুধ, তাই এটি নিরাপদে তালাবদ্ধ রাখুন এবং শিশুসহ অন্য কারও নাগালের বাইরে রাখুন — পাতা ছড়িয়ে রাখবেন না, কারও সঙ্গে ভাগ করবেন না। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
Asibalin 50 কি নেশা ধরায়? শুনেছি বাংলাদেশে প্রিগাবালিনের অপব্যবহার হয়।
প্রিগাবালিনে নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে — বিশেষত উচ্চ মাত্রায়, দীর্ঘদিন ব্যবহারে বা মাদকাসক্তির ইতিহাস থাকলে — এবং হ্যাঁ, প্রেসক্রিপশন ছাড়া এর অপব্যবহার বাংলাদেশে একটি স্বীকৃত সমস্যা। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে — সঠিক রোগনির্ণয়, নির্ধারিত মাত্রা, নিয়মিত ফলোআপ — Asibalin 50 স্নায়ুব্যথার কার্যকর ও মোটামুটি নিরাপদ ওষুধ। নিজে মাত্রা বাড়াবেন না, প্রেসক্রিপশন ছাড়া কিনবেন না, কারও সঙ্গে ভাগ করবেন না — এই তিন নিয়মই আপনাকে সুরক্ষা দেবে।
ব্যথা ভালো হয়ে গেলে কি হঠাৎ Asibalin 50 বন্ধ করে দিতে পারি?
না — কখনোই হঠাৎ বন্ধ করবেন না। আচমকা বন্ধ করলে উইথড্রয়াল উপসর্গ দেখা দিতে পারে: অনিদ্রা, অস্থিরতা, বমিভাব, মাথাব্যথা, ঘাম, এমনকি মৃগীরোগে ব্যবহারকারীদের খিঁচুনিও হতে পারে। আপনি ও আপনার চিকিৎসক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিলে মাত্রা অন্তত এক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে কমানো হয়, দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর আরও বেশি সময় নিয়ে। ওষুধ ফুরিয়ে গেলে হুট করে বন্ধ না করে চিকিৎসক বা ফার্মেসিতে যোগাযোগ করুন।
Asibalin 50 খেলে কি ঘুম পায়? খেয়ে কি গাড়ি চালানো যাবে?
ঝিমুনি ও মাথা ঘোরা Asibalin 50-এর সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বিশেষত প্রথম এক-দুই সপ্তাহে এবং প্রতিবার মাত্রা বাড়ানোর পর। ওষুধটি আপনার ওপর ঠিক কেমন প্রভাব ফেলে তা বুঝে ওঠার আগে গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালাবেন না, যন্ত্রপাতি ব্যবহার করবেন না। ডোজের বড় অংশ রাতে খাওয়া, অ্যালকোহল এড়ানো ও বসা থেকে ধীরে ওঠা — এসবে সমস্যা কমে। কয়েক সপ্তাহ পরও বেশি ঝিমুনি থাকলে মাত্রা সমন্বয়ের জন্য চিকিৎসককে বলুন।
সর্বশেষ হালনাগাদ: