ট্যাবলেট
Anxicon 500 mcg + 10 mg ট্যাবলেট
জেনেরিক: ফ্লুপেনটিক্সল + মেলিট্রাসেন
প্রস্তুতকারক: Veritas Pharmaceuticals Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Antipsychotic + Tricyclic Antidepressant Combination (Thioxanthene + TCA)
Anxicon এর কাজ কি?
Anxicon (ট্যাবলেট)-এর উপাদান ফ্লুপেনটিক্সল + মেলিট্রাসেন 500 mcg + 10 mg, প্রস্তুতকারক Veritas Pharmaceuticals Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Antipsychotic + Tricyclic Antidepressant Combination (Thioxanthene + TCA)।
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি ট্যাবলেট | ৳ 5.01 |
| Tablet | ৳ 5.01 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Anxicon কী?
Anxicon হলো flupentixol ও melitracen যুক্ত একটি ট্যাবলেট, যেখানে থায়োক্সানথিন অ্যান্টিসাইকোটিক ও ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট একসাথে থাকে। চিকিৎসকের বিবেচনায় এটি বিষণ্নতা ও উদ্বেগ-সম্পর্কিত উপসর্গের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা হয়।
Anxicon 500 mcg + 10 mg tablet বাংলাদেশে Veritas Pharmaceuticals Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এটি দুটি ওষুধের নির্দিষ্ট সমন্বয় — ফ্লুপেনটিক্সল (কম মাত্রার থায়োজ্যানথিন জাতীয় ওষুধ) ও মেলিট্রাসেন (ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট) — যা বাংলাদেশে মিশ্র দুশ্চিন্তা-বিষণ্নতায় বহুল প্রচলিত। যত সহজে এটি বিক্রি হয় তার বিপরীতে, এটি কঠোরভাবে প্রেসক্রিপশন-নির্ভর একটি মানসিক রোগের ওষুধ — দৈনন্দিন স্ট্রেস বা তথাকথিত গ্যাস্ট্রিক-টেনশনের আলগা দাওয়াই নয়।
কম মাত্রায় ফ্লুপেনটিক্সল ডোপামিন ও সেরোটোনিন সংকেতে কাজ করে মন চাঙা করে ও দুশ্চিন্তা কমায়, আর মেলিট্রাসেন স্নায়ুকোষের মাঝে নরঅ্যাড্রেনালিন ও সেরোটোনিনের প্রাপ্যতা বাড়ায়। দুটি মিলে দুশ্চিন্তা-হ্রাসকারী ও মেজাজ-উজ্জ্বলকারী প্রভাব দেয়, যা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত খাওয়ার প্রথম কয়েক সপ্তাহেই টের পাওয়া যায়।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
চিকিৎসকরা যেসব ক্ষেত্রে Anxicon দিতে পারেন:
- মিশ্র দুশ্চিন্তা ও বিষণ্নতা — একটানা দুশ্চিন্তার সঙ্গে মন খারাপ, কিছু ভালো না লাগা ও ঘুমের ব্যাঘাত
- সাইকোসোমাটিক উপসর্গ — দুশ্চিন্তা বা মন খারাপ থেকে আসা সত্যিকারের শারীরিক কষ্ট (বুক ধড়ফড়, বুক চেপে আসা, পেটের অস্বস্তি, গা-ব্যথা) — শারীরিক কারণ পরীক্ষা করে বাদ দেওয়ার পর
- নির্বাচিত রোগীদের অবসাদ, ক্লান্তি ও টেনশন-জাতীয় অবস্থা, কিছু মেনোপজজনিত মানসিক উপসর্গসহ
যার জন্য এটি নয়: দৈনন্দিন স্ট্রেস, পরীক্ষার টেনশন, সাধারণ গ্যাস্ট্রিক বা ঘুমের সমস্যা। বাংলাদেশে বহুল প্রচলিত হলেও নিজে নিজে এই ওষুধ খাওয়ায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, আসল রোগ চাপা পড়া এবং মূল সমস্যার চিকিৎসা ছাড়াই ট্যাবলেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সেবনবিধি ও মাত্রা
ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Anxicon 500 mcg + 10 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- সাধারণ: অস্থিরতা বা ভেতরে ছটফটে ভাব, ঘুমে অসুবিধা (বিশেষত দিনের শেষ ভাগে খেলে), মুখ শুকানো, মাথা ঘোরা, কাঁপুনি, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘাম, বুক ধড়ফড়
- কম দেখা যায়: ওজনের পরিবর্তন, ঝাপসা দৃষ্টি, প্রস্রাবে অসুবিধা, যৌন কার্যক্ষমতা কমা
- দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে: জিভ, ঠোঁট বা মুখের অনিচ্ছাকৃত বারবার নড়াচড়া (টার্ডিভ ডিসকাইনেসিয়া) — স্থায়ী হয়ে যেতে পারে এমন সমস্যা, যা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পর্যালোচনা দরকার
- গুরুতর (জরুরি): শক্ত মাংসপেশি ও বিভ্রান্তিসহ তীব্র জ্বর, অজ্ঞান হওয়া, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, জন্ডিস, মারাত্মক অ্যালার্জি
মুখ-জিভের নতুন নড়াচড়া, বুক ধড়ফড় বা তীব্র অস্থিরতা দেখা দিলে নিজে মাত্রা না বদলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান।
সতর্কতা
Anxicon-কে যেকোনো মানসিক রোগের ওষুধের মতোই গুরুত্ব দিন:
- শুধু প্রেসক্রিপশনে ব্যবহার করুন — স্ট্রেস, অনিদ্রা বা গ্যাস্ট্রিক-টেনশনের জন্য নিজে নিজে শুরু করবেন না, চারপাশে যত প্রচলিতই হোক
- তত্ত্বাবধান ছাড়া অনির্দিষ্টকাল খাওয়ার ওষুধ এটি নয়; আদৌ দরকার আছে কি না তা নিয়মিত — সম্ভব হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দিয়ে — পর্যালোচনা করান
- হৃদরোগ, মৃগী, গ্লুকোমা, প্রস্টেট বৃদ্ধি, থাইরয়েড, লিভার-কিডনির সমস্যা ও ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসককে জানান
- মদ ও ঘুম-আনা ওষুধ এড়িয়ে চলুন — ঝিমুনি ও মাথা ঘোরা বাড়ায়
- ওষুধ আপনাকে কেমন প্রভাবিত করে তা না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি বা যন্ত্র চালানোয় সতর্ক থাকুন
- বয়স্কদের কম মাত্রা ও ঘনিষ্ঠ নজরদারি দরকার
- দীর্ঘদিন খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না — ধাপে ধাপে কমানোর পরিকল্পনা নিন
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
Anxicon যেসব ওষুধের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ক্রিয়া করতে পারে:
- MAO ইনহিবিটর — কখনোই একসঙ্গে নয়; মাঝে ১৪ দিনের বিরতি লাগে
- অন্যান্য অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট (এসসিটালোপ্রামের মতো SSRI, SNRI) — সেরোটোনিন ও হার্টের ছন্দে বাড়তি প্রভাব; কেবল মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে
- ঘুমের ওষুধ, সিডেটিভ, শক্তিশালী ব্যথানাশক ও মদ — ঝিমুনি বাড়ে, সতর্কতা কমে
- রক্তচাপের ওষুধ — কার্যকারিতা কম-বেশি হতে পারে; দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বাড়তে পারে
- QT-দীর্ঘকারী ওষুধ (কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল, হার্টের ছন্দের ওষুধ) — হৃদস্পন্দনের ঝুঁকি
- অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ — মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে অসুবিধা ও ঝাপসা দৃষ্টি বাড়ায়
শুরুর আগে চিকিৎসককে আপনার সম্পূর্ণ ওষুধের তালিকা দিন।
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
নিচের অবস্থায় Anxicon ব্যবহার করা যাবে না:
- সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ব্লকসহ হৃদস্পন্দনের উল্লেখযোগ্য সমস্যা
- ম্যানিয়া বা অতিরিক্ত উত্তেজিত-অস্থির অবস্থা — ওষুধটি তা বাড়িয়ে দিতে পারে
- MAO ইনহিবিটর চলমান বা গত ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবহৃত হলে
- চিকিৎসা না হওয়া ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা বা প্রস্রাব আটকে যাওয়ার সমস্যা
- গুরুতর লিভার রোগ
- মদ, ঘুমের ওষুধ বা ওপিয়ডে তাৎক্ষণিক নেশাগ্রস্ত অবস্থা
- ফ্লুপেনটিক্সল, মেলিট্রাসেন বা সমজাতীয় যৌগে অ্যালার্জি
- শিশু-কিশোর
মৃগী, পারকিনসন-জাতীয় সমস্যা, প্রস্টেট বৃদ্ধি বা উল্লেখযোগ্য হৃদরোগ থাকলে এই সমন্বয় বিবেচনার আগেই বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন জরুরি।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় এই সমন্বয় সাধারণত অনুমোদিত নয়। এর ট্রাইসাইক্লিক ও অ্যান্টিসাইকোটিক উপাদান, বিশেষত প্রসবের কাছাকাছি সময়ে, নবজাতকের সাময়িক সমস্যা — অস্থিরতা, দুধ টানতে অসুবিধা, উইথড্রয়াল-জাতীয় উপসর্গ — ঘটাতে পারে। Anxicon খাওয়া অবস্থায় গর্ভধারণ করলে বা পরিকল্পনা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; ওষুধ হঠাৎ বন্ধ না করে পর্যালোচনা করে বদলানো বা ধীরে কমানো হবে।
বুকের দুধ খাওয়ানো: দুটি উপাদানই অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়, তাই দুগ্ধদানকালে এই সমন্বয় সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। এ সময় দুশ্চিন্তা-বিষণ্নতার চিকিৎসা দরকার হলে চিকিৎসক সাধারণত নিরাপত্তা-তথ্যসমৃদ্ধ একক কোনো ওষুধ বেছে নেন।
সংরক্ষণ
Anxicon মূল প্যাকেটে, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, আলো, তাপ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন; স্যাঁতসেঁতে বাথরুমে কখনো নয়। ওষুধটি শিশুদের নাগালের সম্পূর্ণ বাইরে রাখুন — ট্রাইসাইক্লিক উপাদানযুক্ত ট্যাবলেট শিশু গিলে ফেললে বিশেষ বিপজ্জনক। বাংলাদেশে এই ওষুধ নিজে নিজে খাওয়ার চল ব্যাপক বলে আত্মীয়-প্রতিবেশীর টেনশন বা গ্যাস্ট্রিকের জন্য নিজের ট্যাবলেট ভাগ করে দেবেন না, ভবিষ্যতের জন্য পুরোনো পাতাও জমিয়ে রাখবেন না। মেয়াদ দেখে নিন, নষ্ট ট্যাবলেট ফেলে দিন এবং বাড়তি ওষুধ নিরাপদে বিনষ্ট করুন।