ট্যাবলেট
Amlocard Plus 50 5 mg + 50 mg ট্যাবলেট
জেনেরিক: অ্যামলোডিপিন + অ্যাটেনোলল
প্রস্তুতকারক: Drug International Ltd.
থেরাপিউটিক ক্লাস: Antihypertensive Combination (Calcium Channel Blocker + Beta-Blocker)
Amlocard Plus 50 এর কাজ কি?
Amlocard Plus 50 (ট্যাবলেট)-এর উপাদান অ্যামলোডিপিন + অ্যাটেনোলল 5 mg + 50 mg, প্রস্তুতকারক Drug International Ltd.। থেরাপিউটিক ক্লাস: Antihypertensive Combination (Calcium Channel Blocker + Beta-Blocker)।
দাম (বাংলাদেশ)
| প্যাক | মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| প্রতি ট্যাবলেট | ৳ 7.00 |
| Strip of 14 | ৳ 98.00 |
দাম পরিবর্তনশীল — ফার্মেসিভেদে প্রকৃত খুচরা মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
Amlocard Plus 50 কী?
Amlocard Plus 50 হলো Drug International Ltd. তৈরি একটি ট্যাবলেট, যাতে amlodipine ৫ mg এবং atenolol ৫০ mg আছে। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয় এবং এই দুই ওষুধ একসঙ্গে উপযোগী হলে এনজাইনার জন্যও দেওয়া হতে পারে।
Amlocard Plus 50 5 mg + 50 mg tablet হলো Drug International Ltd.-এর একটি ফিক্সড-ডোজ কম্বিনেশন ওষুধ, যাতে রয়েছে Amlodipine + Atenolol। একটি মাত্র ওষুধে রক্তচাপ লক্ষ্যমাত্রায় না এলে উচ্চ রক্তচাপ ও অ্যানজাইনার চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়।
দুটি উপাদান পরিপূরকভাবে কাজ করে। অ্যামলোডিপিন একটি ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার — এটি রক্তনালি শিথিল ও প্রশস্ত করে, ফলে রক্ত কম বাধায় চলাচল করে। অ্যাটেনোলল একটি বিটা-ব্লকার — এটি হৃদস্পন্দন ধীর করে ও স্পন্দনের জোর কমায়, ফলে হার্টের পরিশ্রম কমে। একসাথে এরা আলাদা যেকোনোটির চেয়ে ভালোভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং একে অন্যের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন গোড়ালি ফোলা বা দ্রুত নাড়ি) কমাতে সাহায্য করে।
নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)
- একটি ওষুধে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণে না আসা উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন)
- অ্যানজাইনা — পরিশ্রমজনিত বুকে ব্যথা
- যাদের ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার ও বিটা-ব্লকার দুটিই দরকার, তাদের জন্য একটি সুবিধাজনক ট্যাবলেট
সেবনবিধি ও মাত্রা
ChamberBD শুধু অনুমোদিত লেবেল (প্যাকেটের লিফলেট) থেকে উৎসসহ সেবনবিধি দেখায়, আর Amlocard Plus 50 5 mg + 50 mg ট্যাবলেট-এর লেবেল আমাদের কাছে নেই। ডাক্তারের দেওয়া মাত্রা এবং প্যাকেটের লিফলেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- গোড়ালি বা পা ফুলে যাওয়া (অ্যামলোডিপিনের কারণে — তবে এককভাবে অ্যামলোডিপিন খাওয়ার চেয়ে প্রায়ই কম)
- ধীর নাড়ি, ক্লান্তি, দুর্বলতা (অ্যাটেনোললের কারণে)
- মাথা ঘোরা, ঝিমঝিম ভাব, মাথাব্যথা
- মুখ-গরম ভাব (ফ্লাশিং), বুক ধড়ফড়
- হাত-পা ঠান্ডা লাগা
- ঘুমের সমস্যা, অদ্ভুত স্বপ্ন
- পেটের অস্বস্তি, বমিভাব
- অজ্ঞান হওয়া, খুব ধীর নাড়ি, তীব্র শ্বাসকষ্ট বা মারাত্মক ফোলা হলে চিকিৎসা নিন
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্তচাপ ও নাড়ি মাপুন; রেকর্ড রেখে চিকিৎসককে দেখান।
- হাঁপানি, সিওপিডি, ডায়াবেটিস, হার্ট ফেইলিউর, লিভার বা কিডনি রোগ, বা রক্ত চলাচলের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- ডায়াবেটিস রোগী: অ্যাটেনোলল উপাদানটি সুগার কমার সতর্ক লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে — সুগার ঘনঘন মাপুন।
- মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি হতে পারে — গাড়ি চালানোর আগে নিজের অবস্থা বুঝে নিন।
- বসা বা শোয়া থেকে ধীরে উঠুন।
- অপারেশন বা অজ্ঞান করার আগে চিকিৎসক/ডেন্টিস্টকে জানান।
- গোড়ালির ফোলা মারাত্মক বা এক পায়ে হলে জানান (এক পায়ের ফোলা জরুরিভাবে দেখাতে হবে)।
অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ভেরাপামিল, ডিলটিয়াজেম: বিটা-ব্লকার উপাদানের সাথে মিলে নাড়ি বিপজ্জনকভাবে ধীর হতে পারে — ঘনিষ্ঠ তত্ত্বাবধান ছাড়া এড়িয়ে চলুন
- অন্যান্য রক্তচাপের ওষুধ: চাপ বেশি কমে যেতে পারে
- ডিগক্সিন, অ্যামিওডারন: হৃদস্পন্দন আরও ধীর হতে পারে
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ওষুধ: সুগার কমার সতর্ক লক্ষণ ঢাকা পড়তে পারে
- ব্যথানাশক NSAID: রক্তচাপ কমানোর কার্যকারিতা কমাতে পারে
- সিমভাস্ট্যাটিন (উচ্চ মাত্রা): অ্যামলোডিপিন এর মাত্রা বাড়ায় — মাত্রার সীমা মানতে হয়
- ক্লোনিডিন: বন্ধ করার সময় ক্রম মেনে চলা জরুরি
- আঙুরের (গ্রেপফ্রুট) রস বেশি পরিমাণে: অ্যামলোডিপিনের মাত্রা বাড়াতে পারে
প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)
- অ্যামলোডিপিন, অ্যাটেনোলল, অন্যান্য ডাইহাইড্রোপিরিডিন বা বিটা-ব্লকারে অ্যালার্জি
- খুব ধীর হৃদস্পন্দন, সিক সাইনাস সিনড্রোম বা পেসমেকার ছাড়া সেকেন্ড/থার্ড ডিগ্রি হার্ট ব্লক
- কার্ডিওজেনিক শক, মারাত্মক নিম্ন রক্তচাপ (সিস্টোলিক প্রায় ৯০ মি.মি. পারদের নিচে)
- অনিয়ন্ত্রিত হার্ট ফেইলিউর
- মারাত্মক হাঁপানি বা তীব্র শ্বাসনালি সংকোচনের ইতিহাস
- চিকিৎসা-না-হওয়া ফিওক্রোমোসাইটোমা
- মারাত্মক অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় এই কম্বিনেশন সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। অ্যাটেনোলল উপাদানটির সাথে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে, তাই চিকিৎসকরা সাধারণত ল্যাবেটালল বা মিথাইলডোপার মতো নিরাপদ বিকল্পে বদলে দেন। গর্ভবতী হলে বা পরিকল্পনা থাকলে সাথে সাথে চিকিৎসককে জানান।
স্তন্যদান: অ্যাটেনোলল উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বুকের দুধে যায় এবং শিশুর হৃদস্পন্দন ধীর করতে পারে; অ্যামলোডিপিনও অল্প পরিমাণে যায়। দুধ খাওয়ানোর সময় এই কম্বিনেশন সাধারণত এড়িয়ে চলা হয় — নিরাপদ বিকল্পের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সংরক্ষণ
৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। মূল প্যাকেটে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।