ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Er Tablet

Aceclofenac SR 200 mg Er Tablet

জেনেরিক: এসিক্লোফেনাক

প্রস্তুতকারক: Albion Laboratories Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Non-steroidal anti-inflammatory drug (NSAID)

Aceclofenac SR কী?

Aceclofenac SR 200 mg er tablet বাংলাদেশে Albion Laboratories Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে রয়েছে Aceclofenac, ডাইক্লোফেনাকের সঙ্গে রাসায়নিকভাবে সম্পর্কিত একটি আধুনিক NSAID ব্যথানাশক, যা আর্থ্রাইটিস, কোমরব্যথা, দাঁতব্যথাসহ প্রদাহজনিত ব্যথায় বাংলাদেশে খুবই বেশি ব্যবহৃত হয়। পুরোনো NSAID-এর তুলনায় অনেকে এটি পাকস্থলীর জন্য কিছুটা সহনীয় পান, তবে মূল সতর্কতাগুলো একই থাকে।

এসিক্লোফেনাক সাইক্লো-অক্সিজেনেজ (COX) এনজাইম বন্ধ করে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের উৎপাদন কমায় — এই রাসায়নিকই প্রদাহযুক্ত গিঁট ও টিস্যুতে ব্যথা, ফোলা ও আড়ষ্টতা সৃষ্টি করে। শরীরে এটি আংশিকভাবে ডাইক্লোফেনাক-জাতীয় সক্রিয় উপাদানে রূপান্তরিত হয়ে দিনে দুবার সেবনে স্থির আরাম দেয়। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন যেহেতু পাকস্থলীকে রক্ষা করে ও কিডনির রক্তপ্রবাহ ঠিক রাখে, তাই এটি খাবারের সঙ্গে ও সাবধানে খেতে হয়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে Aceclofenac SR ব্যবহৃত হয়:

  • অস্টিওআর্থ্রাইটিস (হাঁটু, কোমরসহ বিভিন্ন গিঁট)
  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
  • অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস
  • কোমরব্যথা ও ঘাড়ব্যথা
  • দাঁতব্যথা ও ছোট অস্ত্রোপচারের পরের ব্যথা
  • মচকানো, টান লাগা ও খেলাধুলার আঘাত
  • মাসিকের ব্যথা
  • ফ্রোজেন শোল্ডার, টেন্ডোনাইটিসসহ নরম টিস্যুর ব্যথা

এটি কেবল উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করে; ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বারবার ফিরে এলে মূল রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক দেখান।

সেবনবিধি ও মাত্রা

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য Aceclofenac SR-এর সাধারণ মাত্রা দিনে দুবার ১০০ মি.গ্রা. — সকালে একটি ও রাতে একটি ট্যাবলেট — খাবারের সঙ্গে বা ঠিক পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সাসটেইন্ড-রিলিজ ২০০ মি.গ্রা. প্রস্তুতি দিনে একবার খাওয়া হয়।

  • দিনে সর্বোচ্চ ২০০ মি.গ্রা.
  • সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রায়, যথাসম্ভব কম সময়ের জন্য খান
  • লিভারের সমস্যা ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে কম মাত্রা লাগতে পারে
  • শিশুদের জন্য প্রযোজ্য নয়

নিজে থেকে মাত্রা বা মেয়াদ বাড়াবেন না; ওষুধটি এখনো দরকার কি না তা চিকিৎসকই পর্যালোচনা করবেন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

Aceclofenac SR-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • বদহজম, পেটব্যথা, বুক জ্বালা, বমিভাব বা ডায়রিয়া
  • মাথা ঘোরা বা মাথাব্যথা
  • রক্ত পরীক্ষায় লিভার এনজাইম সামান্য বৃদ্ধি
  • শরীরে পানি জমা ও রক্তচাপ সামান্য বৃদ্ধি

গুরুতর কিন্তু কম দেখা যায়: পাকস্থলী বা ডিওডেনামের আলসার ও রক্তক্ষরণ (কালো পায়খানা, রক্তবমি), কিডনির ক্ষতি, লিভারের ক্ষতি, তীব্র চর্ম বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ মাত্রায় হার্ট অ্যাটাক-স্ট্রোকের ঝুঁকি সামান্য বৃদ্ধি। কালো পায়খানা, চোখ হলুদ, শরীর ফোলা বা বুকব্যথা হলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসক দেখান।

সতর্কতা

Aceclofenac SR ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মানবেন:

  • সবসময় খাবারের সঙ্গে খান; দীর্ঘ কোর্সে চিকিৎসক সঙ্গে গ্যাস্ট্রিক-সুরক্ষার ওষুধ (PPI) দিতে পারেন
  • ডেঙ্গু জ্বরে বা সন্দেহে খাবেন না — সব NSAID-এর মতো এটিও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়; জ্বরে প্যারাসিটামল নিন
  • বয়স্ক হলে কিংবা আলসার, কিডনি রোগ, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, লিভার রোগ বা হাঁপানির ইতিহাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন
  • পানিশূন্য অবস্থায় (বমি, ডায়রিয়া) এড়িয়ে চলুন
  • দুটি NSAID একসঙ্গে খাবেন না
  • দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় নিয়মিত রক্তচাপ, কিডনি, লিভার এনজাইম ও হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করান

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

Aceclofenac SR-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার‌্যাকশন:

  • অন্য NSAID ও অ্যাসপিরিন — আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি অনেক বাড়ায়
  • রক্ত পাতলা করার ওষুধ (ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, রিভারক্সাবান) — রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেশি
  • স্টেরয়েড ও SSRI — পাকস্থলীর রক্তক্ষরণের বাড়তি ঝুঁকি
  • ACE ইনহিবিটর, ARB ও ডাইউরেটিক — একসঙ্গে খেলে কিডনির ক্ষতি ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত
  • লিথিয়াম, মেথোট্রেক্সেট ও ডিগক্সিন — রক্তে এদের মাত্রা বাড়াতে পারে
  • সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস — কিডনির বিষক্রিয়া বাড়ে
  • ডায়াবেটিসের ওষুধ — মাঝে মাঝে সুগারের ওঠানামা; নজর রাখুন

আপনার সব ওষুধের পূর্ণ তালিকা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে দিন।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে Aceclofenac SR খাবেন না:

  • সক্রিয় পেপটিক আলসার বা পেটে রক্তক্ষরণ, কিংবা NSAID-জনিত রক্তক্ষরণের ইতিহাস
  • অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID-এ হাঁপানি, চাকা ফোলা বা অ্যালার্জি
  • গুরুতর হার্ট ফেইলিউর, প্রমাণিত ইস্কেমিক হৃদরোগ, স্ট্রোক বা রক্তনালির রোগ
  • গুরুতর কিডনি বা লিভারের দুর্বলতা
  • ডেঙ্গু জ্বর বা ডেঙ্গুর সন্দেহ
  • গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস
  • এসিক্লোফেনাক, ডাইক্লোফেনাক বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় Aceclofenac SR এড়িয়ে চলা উচিত এবং শেষ তিন মাসে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ — অন্যান্য NSAID-এর মতো এটিও গর্ভের শিশুর হার্টের রক্তনালি অসময়ে বন্ধ করতে, শিশুর কিডনির ক্ষতি করতে ও প্রসব বিলম্বিত করতে পারে। গর্ভাবস্থায় ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামলই উত্তম।

স্তন্যদান: বুকের দুধে এসিক্লোফেনাক নিয়ে তথ্য সীমিত, তাই স্তন্যদানকালে এটি সাধারণত পছন্দনীয় নয়; চিকিৎসকেরা বেশি গবেষিত বিকল্প বেছে নেন। চিকিৎসক নির্দিষ্টভাবে বললে তবেই খান।

সংরক্ষণ

Aceclofenac SR ৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট ব্লিস্টার প্যাকেই রাখুন। সব ওষুধ শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

Aceclofenac SR আর ডাইক্লোফেনাক কি একই ওষুধ?

দুটি কাছাকাছি হলেও এক নয়। এসিক্লোফেনাক রাসায়নিকভাবে ডাইক্লোফেনাক থেকে তৈরি এবং শরীরে আংশিকভাবে ডাইক্লোফেনাক-জাতীয় উপাদানে রূপান্তরিত হয়, তাই ব্যথা কমানোর ক্ষমতা প্রায় সমান। গবেষণা বলছে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এসিক্লোফেনাকে পেটের সমস্যা কিছুটা কম হয়। তবে NSAID-এর সব বড় সতর্কতা — খাবারের সঙ্গে খাওয়া, আলসার-রক্তক্ষরণের ঝুঁকি, কিডনি-হার্টের সাবধানতা এবং ডেঙ্গুতে না খাওয়া — Aceclofenac SR-এর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

খালি পেটে কি Aceclofenac SR খাওয়া যাবে?

না। Aceclofenac SR খাবারের সঙ্গে বা খাওয়ার ঠিক পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। NSAID পাকস্থলীর সুরক্ষাকারী প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন কমিয়ে দেয়, তাই খালি পেটে খেলে গ্যাস্ট্রিক, ব্যথা ও আলসারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। খাবারের সঙ্গে খাওয়ার পরও যদি বুক জ্বালা বা পেটব্যথা চলতেই থাকে, চিকিৎসককে জানান — তিনি গ্যাস্ট্রিক-সুরক্ষার ওষুধ যোগ করতে বা অন্য ব্যথানাশকে বদলে দিতে পারেন।

ডেঙ্গু মৌসুমে জ্বরের জন্য কি Aceclofenac SR খাওয়া যাবে?

না। Aceclofenac SR একটি NSAID, আর ডেঙ্গুর সম্ভাবনা থাকলে সব NSAID এড়িয়ে চলতে হয় — এগুলো প্লাটিলেটের কাজ ব্যাহত করে মারাত্মক রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়। ডেঙ্গু মৌসুমে জ্বরে দৈনিক সীমার মধ্যে প্যারাসিটামল খান ও প্রচুর তরল পান করুন। জ্বর দুই দিনের বেশি থাকলে, কিংবা তীব্র পেটব্যথা, বমি, মাড়ি দিয়ে রক্ত বা কালো পায়খানার মতো বিপদচিহ্ন দেখা দিলে চিকিৎসক দেখিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করান।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: