ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

Suppository

A Fenac 50 mg Suppository

জেনেরিক: ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম

প্রস্তুতকারক: The ACME Laboratories Ltd.

থেরাপিউটিক ক্লাস: Non-steroidal anti-inflammatory drug (NSAID)

A Fenac কী?

A Fenac 50 mg Suppository-তে ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম আছে, যা একটি নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAID)। সাপোজিটরি ব্যবহার উপযুক্ত হলে এটি আর্থ্রাইটিস, পেশি বা জয়েন্টের ব্যথা এবং মাসিকের ব্যথায় ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়।

A Fenac 50 mg suppository বাংলাদেশে The ACME Laboratories Ltd. কর্তৃক প্রস্তুত ও বাজারজাত করা হয়। এতে রয়েছে Diclofenac Sodium, দেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত NSAID ব্যথানাশকগুলোর একটি। আর্থ্রাইটিস, কোমরব্যথা, মচকানো, দাঁতব্যথা, মাইগ্রেন ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যথার মতো যেসব ক্ষেত্রে ব্যথার সঙ্গে প্রদাহও কমানো দরকার, সেখানে চিকিৎসকেরা এটি দিয়ে থাকেন।

ডাইক্লোফেনাক সাইক্লো-অক্সিজেনেজ (COX) এনজাইম বন্ধ করে কাজ করে। এই এনজাইম দিয়ে শরীর প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি করে, যা আঘাত বা প্রদাহের জায়গায় ব্যথা, ফোলা ও জ্বরের জন্য দায়ী। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন কমলে ব্যথা ও ফোলা কমে আসে। তবে একই কারণে পাকস্থলীর সুরক্ষাস্তর কমে যায় ও কিডনির রক্তপ্রবাহে প্রভাব পড়ে — তাই এটি অবশ্যই খাবারের সঙ্গে ও সাবধানে খেতে হয়।

নির্দেশনা (যেসব রোগে ব্যবহৃত হয়)

প্রদাহসহ ব্যথায় A Fenac ব্যবহৃত হয়, যেমন:

  • অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অ্যানকাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস
  • কোমরব্যথা, ঘাড়ব্যথা ও সায়াটিকা
  • মচকানো, টান লাগা ও খেলাধুলার আঘাত
  • দাঁতব্যথা ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যথা
  • মাসিকের ব্যথা
  • মাইগ্রেনের আক্রমণ
  • গাউটের তীব্র ব্যথা
  • কিডনির পাথরের ব্যথা (সাধারণত ইনজেকশন বা সাপোজিটরি আকারে)

এটি কেবল উপসর্গ কমায়; মূল রোগের জন্য চিকিৎসকের সঠিক রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা প্রয়োজন।

সেবনবিধি ও মাত্রা

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য A Fenac-এর সাধারণ মাত্রা দিনে দুই থেকে তিনবার ৫০ মি.গ্রা., অথবা প্রস্তুতি অনুযায়ী দিনে একবার ১০০ মি.গ্রা. সাসটেইন্ড-রিলিজ ট্যাবলেট। সবসময় খাবারের সঙ্গে বা খাওয়ার ঠিক পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খাবেন — খালি পেটে কখনোই নয়।

  • সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রায়, সবচেয়ে কম সময়ের জন্য ব্যবহার করুন
  • দিনে সাধারণত সর্বোচ্চ ১৫০ মি.গ্রা., শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে
  • বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া শিশুদের জন্য নয়

আপনার রোগ, বয়স এবং পাকস্থলী, কিডনি ও হার্টের অবস্থা দেখে চিকিৎসকই সঠিক মাত্রা ও মেয়াদ ঠিক করবেন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

A Fenac-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:

  • পেটব্যথা, বুক জ্বালা, বমিভাব, বদহজম বা ডায়রিয়া
  • মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা
  • রক্তচাপ বৃদ্ধি ও শরীরে পানি জমা (পায়ের গোড়ালি ফোলা)

গুরুতর কিন্তু তুলনামূলক কম দেখা যায়: পাকস্থলী বা ডিওডেনামের আলসার ও রক্তক্ষরণ (কালো পায়খানা, রক্তবমি), কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস, লিভার এনজাইম পরিবর্তন, তীব্র অ্যালার্জি এবং দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ মাত্রায় হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি সামান্য বৃদ্ধি। কালো পায়খানা, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা তীব্র পেটব্যথা হলে ওষুধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।

সতর্কতা

A Fenac ব্যবহারে যেসব সতর্কতা মানবেন:

  • সবসময় খাবারের সঙ্গে খান; চিকিৎসক সঙ্গে গ্যাস্ট্রিকের সুরক্ষা-ওষুধ (যেমন PPI) দিতে পারেন
  • ডেঙ্গু জ্বরে বা ডেঙ্গু সন্দেহ হলে একেবারেই খাবেন না — রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে; বদলে প্যারাসিটামল নিন
  • বয়স্ক হলে কিংবা আলসার, কিডনি রোগ, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, লিভার রোগ বা হাঁপানির ইতিহাস থাকলে খুব সাবধানে ব্যবহার করুন
  • পানিশূন্যতায় (বমি, ডায়রিয়া) এড়িয়ে চলুন — কিডনির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়
  • অন্য কোনো NSAID-এর সঙ্গে মেলাবেন না
  • সবচেয়ে কম মাত্রায় কম সময় ব্যবহার করুন; পর্যালোচনা ছাড়া মাসের পর মাস প্রতিদিন খাবেন না

অন্য ওষুধের সাথে প্রতিক্রিয়া

A Fenac-এর গুরুত্বপূর্ণ ইন্টার‌্যাকশন:

  • অন্যান্য NSAID ও অ্যাসপিরিন — আলসার ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়
  • রক্ত পাতলা করার ওষুধ (ওয়ারফারিন, রিভারক্সাবান, ক্লোপিডোগ্রেল) — রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে
  • স্টেরয়েড ও SSRI — পাকস্থলীর রক্তক্ষরণের বাড়তি ঝুঁকি
  • ACE ইনহিবিটর, ARB ও ডাইউরেটিক — একসঙ্গে খেলে কিডনির ক্ষতি ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত হতে পারে
  • লিথিয়াম, মেথোট্রেক্সেট, ডিগক্সিন — রক্তে এদের মাত্রা ও বিষক্রিয়া বাড়ায়
  • সাইক্লোস্পোরিন ও ট্যাক্রোলিমাস — কিডনির বিষক্রিয়া বাড়ে
  • ডায়াবেটিসের ওষুধ — মাঝে মাঝে রক্তের সুগারে তারতম্য হতে পারে

আপনার সব ওষুধের কথা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান।

প্রতিনির্দেশনা (যখন খাওয়া যাবে না)

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে A Fenac খাবেন না:

  • সক্রিয় পাকস্থলী বা ডিওডেনামের আলসার বা যেকোনো চলমান রক্তক্ষরণ
  • NSAID-জনিত পেটে রক্তক্ষরণ বা ছিদ্র হওয়ার ইতিহাস
  • প্রমাণিত হৃদরোগ (ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ, হার্ট ফেইলিউর), স্ট্রোক বা রক্তনালির রোগ
  • গুরুতর কিডনি বা লিভার ফেইলিউর
  • অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID-এ হাঁপানি, চাকা-চাকা ফোলা বা অ্যালার্জির ইতিহাস
  • ডেঙ্গু জ্বর বা ডেঙ্গুর সন্দেহ
  • গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাস
  • ডাইক্লোফেনাক বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় A Fenac এড়িয়ে চলা উচিত, এবং শেষ তিন মাসে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ — এতে গর্ভের শিশুর হার্টের একটি রক্তনালি অসময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া, শিশুর কিডনির সমস্যা এবং প্রসব বিলম্বিত হয়ে রক্তক্ষরণ বাড়ার ঝুঁকি থাকে। গর্ভের শুরুর দিকে কেবল চিকিৎসক একান্ত প্রয়োজন মনে করলেই ব্যবহারযোগ্য; বিকল্প হিসেবে প্যারাসিটামলই উত্তম।

স্তন্যদান: বুকের দুধে খুব অল্প পরিমাণ যায়। অল্প দিনের কোর্স সাধারণত গ্রহণযোগ্য, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে খাবেন।

সংরক্ষণ

A Fenac ৩০° সেলসিয়াসের নিচে ঠান্ডা ও শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট ব্লিস্টার প্যাকেই রাখুন। জেল, সাপোজিটরি ও ইনজেকশন লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন। সব ওষুধ শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কখনোই ব্যবহার করবেন না।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

ডেঙ্গু জ্বরের সময় কি A Fenac খাওয়া যাবে?

না। ডেঙ্গু জ্বরে বা ডেঙ্গুর সন্দেহ থাকলে ডাইক্লোফেনাকসহ সব NSAID এড়িয়ে চলতে হবে। এগুলো প্লাটিলেটের কাজে বাধা দেয় ও পাকস্থলীর আবরণে ক্ষত তৈরি করে, ফলে ডেঙ্গুর বিপজ্জনক রক্তক্ষরণ শুরু বা আরও খারাপ হতে পারে। ডেঙ্গু মৌসুমে জ্বর ও গা-ব্যথায় দৈনিক সীমার মধ্যে প্যারাসিটামল খান, আর জ্বর না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শে CBC/NS1 পরীক্ষা করান।

A Fenac কি খাবারের আগে না পরে খাব?

A Fenac সবসময় খাবারের সঙ্গে বা খাওয়ার ঠিক পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। ডাইক্লোফেনাক পাকস্থলীর সুরক্ষাকারী প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন কমিয়ে দেয়, তাই খালি পেটে খেলে গ্যাস্ট্রিক, বুক জ্বালা ও আলসারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। কয়েক দিনের বেশি খেতে হলে চিকিৎসক সঙ্গে ওমিপ্রাজল বা ইসোমিপ্রাজলের মতো পাকস্থলী-সুরক্ষাকারী ওষুধও দিতে পারেন।

মাসের পর মাস প্রতিদিন A Fenac খাওয়া কি নিরাপদ?

দীর্ঘমেয়াদে প্রতিদিন খেতে হলে তা কেবল চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই হওয়া উচিত। একটানা ডাইক্লোফেনাক খেলে পাকস্থলীর আলসার ও রক্তক্ষরণ, কিডনির ক্ষতি, রক্তচাপ বৃদ্ধি ও হার্টের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে বয়স্কদের। আর্থ্রাইটিসের জন্য দীর্ঘদিন দরকার হলে চিকিৎসক সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রা দেবেন, সঙ্গে গ্যাস্ট্রিকের সুরক্ষা-ওষুধ দিতে পারেন, এবং নিয়মিত রক্তচাপ, কিডনি ও হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করাবেন। ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে কিনে খেতে থাকবেন না।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?

সর্বশেষ হালনাগাদ: