ChamberBD Logo ChamberBD
See in English

গ্লুকোমা: নীরব দৃষ্টিক্ষয় ও চোখের চাপ

গ্লুকোমাকে প্রায়ই বলা হয় দৃষ্টির নীরব চোর, আর তা যথার্থই। এটি চোখ থেকে মস্তিষ্কে ছবি বহনকারী স্নায়ুকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে, সাধারণত কোনো ব্যথা বা আগাম সংকেত ছাড়াই। বেশিরভাগ মানুষ যখন সমস্যা টের পান, ততক্ষণে দৃষ্টির বড় একটি অংশ চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। আশার কথা হলো, আগেভাগে শনাক্ত করে নিয়মিত চিকিৎসা নিলে গ্লুকোমা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং আরও ক্ষতি ঠেকানো যায়। একটি সাধারণ চোখ পরীক্ষাই সারা জীবনের দৃষ্টি রক্ষা করতে পারে।

গ্লুকোমা কী?

সুস্থ চোখে একটি স্বচ্ছ তরল ক্রমাগত তৈরি হয় ও বেরিয়ে যায়, যাতে চাপ সমান থাকে। গ্লুকোমায় এই নিষ্কাশন বন্ধ বা ধীর হয়ে যায়, ফলে চাপ বেড়ে গিয়ে ধীরে ধীরে অপটিক নার্ভ নষ্ট করে। এই স্নায়ু একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর সারে না, তাই হারানো দৃষ্টি ফিরে পাওয়া যায় না। সবচেয়ে সাধারণ ধরনটি বছরের পর বছর ধীরে ধীরে বাড়ে, আর একটি বিরল ধরন হঠাৎ যন্ত্রণাদায়ক চাপ তৈরি করে, যা জরুরি অবস্থা।

সতর্ক-সংকেত কী কী?

গ্লুকোমার সাধারণ ধরনটিতে প্রায়ই প্রথমদিকে কোনো উপসর্গ থাকে না, তাই পরীক্ষা করানো এত জরুরি। বাড়লে যা লক্ষ্য করতে পারেন:

  • পাশের (পেরিফেরাল) দৃষ্টি ধীরে ধীরে কমে যাওয়া, যেন সরু সুড়ঙ্গ দিয়ে দেখা।
  • কম আলোয় বা ভিড়ে চলার সময় দেখতে অসুবিধা।
  • পাশের যে জিনিস খেয়াল করেননি, তাতে ধাক্কা লাগা।

হঠাৎ ধরনটিতে তীব্র চোখব্যথা, লালভাব, মাথাব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টি, আলোর চারপাশে রঙিন বলয় এবং কখনো বমিভাব ও বমি হয়। এর জন্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জরুরি চিকিৎসা দরকার।

কাদের পরীক্ষা করানো উচিত?

যেহেতু প্রাথমিক গ্লুকোমা চোখে পড়ে না, তাই বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য নিয়মিত চোখের চাপ ও অপটিক নার্ভ পরীক্ষা সবচেয়ে জরুরি:

  • চল্লিশোর্ধ্ব যে কেউ, বিশেষত পঞ্চাশের পর।
  • যাদের বাবা-মা, ভাইবোন বা নিকটাত্মীয়ের গ্লুকোমা আছে।
  • ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী।
  • যারা দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ওষুধ বা চোখের ড্রপ ব্যবহার করেছেন।
  • আগে চোখে আঘাত পেয়েছেন বা চশমার পাওয়ার খুব বেশি।

এই দলগুলোর কেউ হলে প্রতি এক-দুই বছরে একবার চোখ পরীক্ষা করানো বুদ্ধিমানের কাজ। নিয়মিত পরীক্ষার পাশাপাশি চোখ রক্ষার জন্য আরও স্বাস্থ্য টিপস পড়তে পারেন।

গ্লুকোমার চিকিৎসা কীভাবে হয়?

চিকিৎসার লক্ষ্য চোখের চাপ কমিয়ে স্নায়ুর আরও ক্ষতি থামানো; এটি হারানো দৃষ্টি ফিরিয়ে আনতে পারে না। প্রতিদিনের চোখের ড্রপই সাধারণত প্রথম ধাপ এবং ঠিকভাবে নির্দেশমতো ব্যবহার করলে ভালো কাজ করে, যদিও আপনি কোনো পার্থক্য টের পান না। কারও কারও নিষ্কাশন উন্নত করতে লেজার বা অপারেশন লাগে। সবচেয়ে বড় নিয়ম—নিজে থেকে কখনো ড্রপ বন্ধ করবেন না, কারণ চাপ আবার নীরবে বেড়ে যেতে পারে। নির্ধারিত ড্রপ আন্দাজে অন্য ব্র্যান্ড না কিনে আমাদের মেডিসিন ডিরেক্টরিতে যাচাই করে নিন, আর ডাক্তার ড্রপের রেকর্ড রাখতে বললে ফ্রি প্রেসক্রিপশন টুল ব্যবহার করুন।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

আপনার বয়স চল্লিশের বেশি হলে, পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস থাকলে, কিংবা পাশের দৃষ্টি কমে আসছে মনে হলে চোখ পরীক্ষা করান। হঠাৎ তীব্র চোখব্যথা, লালভাব, আলোর চারপাশে বলয়সহ ঝাপসা দৃষ্টি, কিংবা বমিভাবসহ হঠাৎ মাথাব্যথা হলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন, কারণ এগুলো বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়া চাপ বোঝাতে পারে, যা কয়েক ঘণ্টায় দৃষ্টিকে হুমকিতে ফেলে। যোগ্য চক্ষু বিশেষজ্ঞ খুঁজে নিতে পারেন আমাদের নিবন্ধিত ডাক্তারের তালিকা থেকে। এই লেখাটি সাধারণ স্বাস্থ্য-শিক্ষার জন্য; এটি পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়, নিজের চোখের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

গ্লুকোমায় হারানো দৃষ্টি কি ফিরিয়ে আনা যায়?

না। অপটিক নার্ভের ক্ষতি স্থায়ী, তাই হারিয়ে যাওয়া দৃষ্টি আর ফেরে না। এ কারণেই আগেভাগে শনাক্ত করা এবং বাকি দৃষ্টি রক্ষায় নিয়মিত চিকিৎসা এত গুরুত্বপূর্ণ।

ড্রপ কি সারাজীবন ব্যবহার করতে হবে?

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হ্যাঁ। গ্লুকোমা একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, আর ড্রপ চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। বন্ধ করলে চাপ নীরবে বেড়ে গিয়ে স্নায়ুর আরও ক্ষতি করে।

গ্লুকোমা হলে কি অন্ধ হয়ে যাব?

যারা আগেভাগে শনাক্ত হন ও চিকিৎসা মেনে চলেন, তাদের বেশিরভাগই সারা জীবন কার্যকর দৃষ্টি ধরে রাখেন। অন্ধত্ব সাধারণত তখনই হয় যখন গ্লুকোমা দেরিতে ধরা পড়ে বা চিকিৎসা বন্ধ করা হয়।

গ্লুকোমা কি চোখের উচ্চ রক্তচাপের মতো?

ঠিক তা নয়। গ্লুকোমায় অপটিক নার্ভের ক্ষতি হয়, যা প্রায়ই বাড়তি চোখের চাপের সঙ্গে যুক্ত, তবে কারও কারও স্বাভাবিক চাপেও হয়। এ জন্য শুধু চাপ মাপা নয়, পূর্ণ চোখ পরীক্ষা দরকার।

এই তথ্যটি কি আপনার কাজে লেগেছে?